পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের গেটে তালা, বাইরে দাঁড়িয়ে বিজয়া সম্মিলনী বিধায়িকার! পরদিনই চাবি নিজের হেফাজতে নিলেন রত্না দেবনাথ

*উৎপল দাস,পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা:*

বিজয়া সম্মিলনী করতে এসে ক্লাবের গেটে তালা দেখে হতবাক হয়েছিলেন বিধায়িকা। অবশেষে খুদে খেলোয়াড়দের নিয়েই মিষ্টিমুখ করে সারতে হলো অনুষ্ঠান। আর তার পরের দিনই ক্লাবের চাবি নিজের হাতে তুলে নিলেন পানিহাটির বিধায়িকা রত্না দেবনাথ। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

*কী ঘটেছিল শনিবার?*

জানা গেছে, শনিবার পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করেছিলেন বিধায়িকা রত্না দেবনাথ। কিন্তু ক্লাবে পৌঁছাতেই দেখেন ক্লাব ঘরের মূল গেটে ঝুলছে বড় তালা। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরও গেট না খোলায় কার্যত হতবাক হয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত মাঠে খেলতে আসা খুদে পড়ুয়াদের মিষ্টিমুখ করিয়েই বিজয়া সম্মিলনীর আনুষ্ঠানিকতা সারেন বিধায়িকা।

*পরদিনই চাবি দখল:*

ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আজ রবিবার ফের পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে পৌঁছান বিধায়িকা। এবার সরাসরি ক্লাবের তালার চাবি নিজের হেফাজতে নিয়ে নেন তিনি।

পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে রত্না দেবনাথ বলেন, "বর্তমানে ক্লাবের কোনো কমিটি নেই। একজন সম্পাদক ছিলেন, তিনিও পদত্যাগ করেছেন। ফলে বর্তমানে ক্লাবের সমস্ত দায়িত্ব আমার। যতদিন পর্যন্ত নতুন ক্লাব কমিটি গঠন না হচ্ছে, ততদিন ক্লাবের দায়িত্ব আমার হাতেই থাকবে। কমিটি গঠন হলেই আমি তাদের হাতে চাবি তুলে দেব।"

*পাল্টা দাবি ক্লাব সদস্যের:*

যদিও বিধায়িকার এই দাবি মানতে নারাজ ক্লাবের প্রবীণ সদস্যরা। ক্লাবের এক প্রবীণ সদস্য জানান, "বিধায়িকা ক্লাবের কাছে লিখিতভাবে কিছুই জানাননি। সে কারণেই উনি এসে তালা বন্ধ দেখেছেন। ক্লাব পরিচালন কমিটি কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করে না। বর্তমানে ক্লাবের দখল নিতে চাইছেন বিধায়িকা।"

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পানিহাটি জুড়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। একটি ঐতিহ্যবাহী স্পোর্টিং ক্লাবের দখল নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হলো কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
*ছবি: উৎপল দাস।*
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সবাই পাবেন CAA সার্টিফিকেট, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

*CAA নিয়ে মমতা ভুল বুঝিয়েছেন, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর | ভোটার তালিকায় নাম তোলা হবে জানুয়ারিতেই*

*ঠাকুরনগর, উত্তর ২৪ পরগনা:* নাগরিকত্বের জন্য যাঁদের নাম এখনও ঝুলে রয়েছে, তাঁদের জন্য বড় সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই শুনানি শেষ করে সকলকে CAA সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

রবিবার ঠাকুরনগরে এক সভা থেকে CAA ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, "CAA-র আওতায় যাঁরা ধর্ম বাঁচানোর জন্য ভারতবর্ষের চরণে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা সবাই নাগরিকত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন। একজন বিরোধিতা করেছিলেন। আজ আপনাদের সঙ্গে অন্যায় করেছিল বলে ঠাকুর তাকে গণতান্ত্রিকভাবে সরিয়ে দিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "এই সরকার আপনাদের সরকার। ৭০টা বিধানসভা আছে, যেখানে মতুয়ারা আমাদের নির্বাচিত করেছে। শিলিগুড়িতে অমিত শাহজী তিন দিন বৈঠক করেছেন। গুজরাত, রাজস্থান সব রাজ্যকে CAA-র পাওয়ার দিয়ে দিয়েছি। এই রাজ্যে তৃণমূল বিরোধিতা করেছে।"

*কী কী আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?*

১. ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শুনানি শেষ করে সকলকে CAA সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
২. সকলেই এসটি সার্টিফিকেট পাবেন।
৩. জানুয়ারি মাসে CAA সার্টিফিকেট প্রাপকদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য কমিশনকে বলা হবে।

মতুয়া সমাজের জন্য অন্যান্য সুবিধার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, "মতুয়া সমাজ এখন থেকেই CAA সার্টিফিকেট পাওয়ার পর ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা যাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পান, প্রত্যেকে যাতে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পান, সেটাও দেখার দায়িত্ব আপনাদের।"

তিনি আরও জানান, সবটা দেখার জন্য সিএম অফিসে একজন আধিকারিককে রাখা হবে, যাতে কেউ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।

ঠাকুরনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিনের খাওয়া-দাওয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আজ বাঙালি খাবারই খাবেন। ইলিশ মাছ থেকে শুরু করে চিংড়ি মাছের পিঠে — যা স্থানীয় স্পেশাল, সবই থাকবে মেনুতে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় এক বিধায়িকা নিজে রান্না করে মুখ্যমন্ত্রীকে খাওয়াচ্ছেন, এটাই তাঁর পরম পাওয়া। ছবি: অঙ্কিত মুখার্জি।
মিনাখাঁয় তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে ১৫ জনপ্রতিনিধি, জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

বসিরহাট : দলবদলকে কেন্দ্র করে মিনাখাঁয় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। বসিরহাটের মিনাখাঁ বিধানসভার কুলটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য সহ একাধিক নেতা-কর্মী ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি অফ ইন্ডিয়াতে যোগদান করেছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। দলীয় পতাকা হাতে তাদের এই যোগদানকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। কুলটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জন সদস্য এবং দু’জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এনসিপিআইতে যোগদান করেন। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা হাতে তুলে দিয়ে তারা নতুন দলে যোগ দেন।

এনসিপিআইর জাতীয় সম্পাদক রাজীব সিনহা জানান, "মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গী হতেই তারা নিজেদের পুরনো দল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগদান করেছেন"। তার দাবি, আগামী দিনে আরও অনেকে এই দলে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এই যোগদানকে ঘিরে মিনাখাঁর কুলটি এলাকায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই দলবদলের ফলে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।

ছবি:সৌমাভ মণ্ডল।
পানিহাটিতে বিজয়া সম্মেলনে এসে বাধার মুখে বিধায়িকা, স্পোর্টিং ক্লাবে তালা ঘিরে চাঞ্চল্য

*নিজস্ব সংবাদদাতা, পানিহাটি, ৩১ অক্টোবর:*

রাজ্য জুড়ে প্রত্যেক থানা এলাকা এবং প্রত্যেক বিধায়কের নিজস্ব বিধানসভা অঞ্চলে বিজয়া সম্মেলন পালনের নির্দেশ রয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভার বিধায়িকা রত্না দেবনাথ শনিবার বিজয়া সম্মেলনের জন্য পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবকে নির্ধারিত করেছিলেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষকেও আগাম জানানো হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ক্লাবে পৌঁছে হতবাক হয়ে যান বিধায়িকা। তিনি দেখেন, ক্লাবের সদর দরজায় তালা ঝুলছে। ১২৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের দুটি গেটেই তালা মারা। ভিতরে আলো জ্বলছে। বিধায়িকার অভিযোগ, গ্রিলের ফাঁক দিয়ে লাঠি ঢুকিয়ে আলো জ্বালানো হয়েছে।

এরপর ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাঠেই খুদে খেলোয়াড়দের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে বিজয়া সম্মেলন সারেন রত্না দেবনাথ।

*বিধায়িকার বিস্ফোরক অভিযোগ:*

পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, "ঢুকতেই পারলাম না। দুটো গেটেই তালা দিয়ে আটকানো। তালা দিয়ে উন্নয়ন বন্ধ রাখা যাবে না।"

তিনি জানান, পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তারা গতকালই পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আজ তাঁর অনুষ্ঠান রয়েছে, সেটা সকলেরই জানা ছিল। তারপরেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ বা কারা তালা মেরে দিয়েছে।

কে এই ঘটনার পিছনে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিধায়িকার বিস্ফোরক দাবি, "আজকে তালা মারার পিছনে তৃণমূলও রয়েছে, সঙ্গে আমাদের বিজেপির একাংশের সমর্থকরাও রয়েছে।"

বিধায়িকার আরও অভিযোগ, গতকাল ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ পেয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ খতিয়ে দেখে আসার পর তৃণমূলের লোকজন এসে এলাকার বাসিন্দাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আজ ক্লাবে ডেকে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু উল্টে ক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হল।

"এই ক্লাবের বয়স ১২৭ বছর। মাঠের অবস্থাও ভালো নয়। এটা অত্যন্ত লজ্জার দিন। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে, তালা খুলে দেবে। আমি এখানে ঢুকব এবং উন্নয়ন হবে," বলেন বিধায়িকা।

বিষয়টি নিয়ে তিনি খড়দহ থানা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।

এদিনের ঘটনায় পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাব চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। *ছবি: উৎপল দাস।*
শিলং লাজংয়ের জয়ে শুরু, কল্যাণীতে হার মহামেডানের
*খেলা*

*ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ (IFL)*
*নিজস্ব প্রতিনিধি,কল্যাণী:* ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ (IFL) ২০২৬-২৭ মরসুমের অভিযান জয় দিয়ে শুরু করল শিলং লাজং এফসি। শনিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মহামেডান এসসি-কে ১-০ গোলে হারাল পাহাড়ের দল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ৯০ মিনিটে, বদলি খেলোয়াড় নেলসন রিম্বাইয়ের পা থেকে।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাপট দেখালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না শিলং। অবশেষে অচলাবস্থা ভাঙেন বদলি ফুটবলাররাই। মহামেডানের পেনাল্টি বক্সের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন আরেক বদলি খেলোয়াড় আবেলসন জাচি। তাঁর বাড়ানো বল ধরে ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশে জয়সূচক গোলটি করেন রিম্বাই।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল রেখে ছন্দে খেলছিল শিলং লাজং। দুই প্রান্ত ব্যবহার করে মহামেডানের রক্ষণে চাপ তৈরি করেন তাঁরা। আক্রমণভাগে দামাইতফাং লিংডো এবং ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার জোয়াও ভিটর ডি পাওলা মোরাইস (জোটা) ছিলেন সবচেয়ে সক্রিয়। অধিনায়ক কেনস্টার খারসাং এবং ওভারকাইন্ডনেস এল মাওনাই মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ পরিচালনা করেন। অন্যদিকে মহামেডান শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় এবং কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর ভরসা রাখে।

২০ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় শিলং। ডিফেন্ডার জোয়েডসন ডস স্যান্টোসের জোরালো শট মহামেডান গোলরক্ষক নিখিল ডেকা প্রথমে ফসকালেও পরে সামলে নেন। পালটা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল মহামেডান, কিন্তু জোয়েডসন দ্রুত ফিরে এসে বিপদমুক্ত করেন।

২২ মিনিটে ফের সুযোগ তৈরি করে শিলং। জোটা, লিংডো এবং এভারব্রাইটসন সানার মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়ায় গোলের পরিস্থিতি তৈরি হলেও মহামেডান ডিফেন্ডার জুয়েল আহমেদ মজুমদারের দুর্দান্ত ট্যাকেলে রক্ষা পায় কলকাতার দল।

মাঝমাঠে এফ লালরেমসাংগা কিছুটা ছন্দ আনার চেষ্টা করলেও বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল শিলংয়ের হাতেই। ডান দিক থেকে থোকচম আদিসন সিং কয়েকবার বিপজ্জনক রান নিলেও শিলংয়ের রক্ষণকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি।

এর মধ্যেই বড় ধাক্কা খায় মহামেডান। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লালরেমসাংগা, তাঁর পরিবর্তে নামেন ফরোয়ার্ড লালথানকিমা। এই পরিবর্তন করতে বাধ্য হন মহামেডান কোচ সুধীর মিশ্র।

৪১ মিনিটে গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করে শিলং। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে সানাকে বাড়ান জোটা। একা গোলরক্ষককে সামনে পেয়েও নিখিল ডেকাকে পরাস্ত করতে পারেননি সানা। পা দিয়ে অসাধারণ সেভ করে দলকে বাঁচান মহামেডান গোলরক্ষক।

ছবি: উৎপল দাস।
नवीन मंडी व्यापार संघ ने मंडी की छह प्रमुख समस्याओं के समाधान की मांग उठाई
सचिव नीलिमा गौतम को सौंपा ज्ञापन, व्यापारियों के साथ बैठक कर समस्याओं का समयबद्ध निस्तारण कराने का किया अनुरोध

आशीष कुमार

मुजफ्फरनगर। नवीन मंडी व्यापार संघ द्वारा नवीन मंडी स्थल पर लंबे समय से व्याप्त विभिन्न ज्वलंत समस्याओं के समाधान एवं मंडी की व्यवस्थाओं में सुधार कराने के संबंध में कृषि उत्पादन मंडी समिति की सचिव नीलिमा गौतम को ज्ञापन देकर समस्याओं से अवगत कराया गया।

ज्ञापन में कहा गया कि नवीन मंडी स्थल जनपद का एक महत्वपूर्ण व्यापारिक केंद्र है, जहां प्रतिदिन बड़ी संख्या में व्यापारी, किसान एवं श्रमिक व्यापारिक गतिविधियों से जुड़े रहते हैं। इसके बावजूद मंडी परिसर में कई मूलभूत समस्याएं लंबे समय से बनी हुई हैं, जिनसे व्यापारिक गतिविधियां प्रभावित हो रही हैं।

नवीन मंडी व्यापार संघ ने प्रमुख रूप से निम्नलिखित मांगें उठाईं—

1. गुड़ की आवक बढ़ाने की मांग: मंडी में लगातार घट रही गुड़ की आवक पर चिंता व्यक्त करते हुए गुड़ का व्यापार मंडी परिसर में ही सुनिश्चित कराने तथा आढ़तियों एवं व्यापारियों के हित में प्रभावी कदम उठाने की मांग की गई।

2. साफ-सफाई की व्यवस्था: मंडी परिसर में नियमित सफाई कराए जाने तथा जगह-जगह लगे कूड़े के ढेरों का समय से निस्तारण कराने की मांग की गई।

3. प्रकाश व्यवस्था: मंडी परिसर एवं दुकानों के आसपास खराब पड़ी लाइटों को तत्काल ठीक कराने तथा आवश्यकता के अनुसार नई लाइटें लगवाने की मांग की गई।

4. दुकानों की छतों की मरम्मत: बरसात के दौरान दुकानों की छतों से पानी टपकने की समस्या को देखते हुए छतों की मरम्मत एवं वाटरप्रूफिंग का कार्य प्राथमिकता से कराने की मांग रखी गई।

5. चूहों के आतंक से निजात: मंडी में बढ़ती चूहों की संख्या से व्यापारियों के माल, बोरों एवं अन्य सामान को हो रहे नुकसान पर चिंता जताते हुए विशेष अभियान चलाकर रोकथाम की मांग की गई।

6. सीसीटीवी कैमरों की व्यवस्था: मंडी के प्रमुख मार्गों, प्रवेश एवं निकास द्वारों तथा संवेदनशील स्थानों पर सीसीटीवी कैमरे लगवाने एवं पहले से लगे कैमरों को चालू कराने की मांग की गई, जिससे सुरक्षा व्यवस्था मजबूत हो सके।

नवीन मंडी व्यापार संघ के अध्यक्ष संजय मिश्रा ने कहा कि मंडी की बेहतर व्यवस्थाएं केवल व्यापारियों के हित में ही नहीं, बल्कि किसानों, श्रमिकों एवं मंडी में आने वाले प्रत्येक व्यक्ति के हित में आवश्यक हैं। मंडी का विकास और व्यापारिक सुविधाओं का विस्तार सभी की प्राथमिकता होनी चाहिए।

उन्होंने सचिव महोदया से अनुरोध किया कि सभी समस्याओं का गंभीरता से संज्ञान लेते हुए संबंधित अधिकारियों एवं कर्मचारियों को आवश्यक दिशा-निर्देश जारी किए जाएं। साथ ही नवीन मंडी व्यापार संघ के पदाधिकारियों के साथ एक बैठक आयोजित कर प्रत्यक्ष संवाद के माध्यम से समस्याओं का प्राथमिकता के आधार पर समयबद्ध निस्तारण कराया जाए।

महामंत्री अंचित मित्तल ने कहा कि व्यापार संघ मंडी के विकास एवं व्यापारियों की सुविधाओं के लिए सदैव सकारात्मक सहयोग देने को तैयार है। संघ का उद्देश्य टकराव नहीं, बल्कि आपसी संवाद और सहयोग के माध्यम से समस्याओं का स्थायी समाधान कराना है।

इस अवसर पर रवि शर्मा, रिंकल बंसल, सचिन सिंघल, अंकित गर्ग, दिनेश राठी, मनीष चौधरी, अनुज, नवल प्रकाश अग्रवाल, कमल गोयल, राजीव, सुखबीर सिंह रमन शर्मा मयंक अरविंद सिंह एवं निशांत शर्मा सहित अन्य व्यापारी उपस्थित रहे।
খাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে হাড়োয়ায় রাজ্য সড়কে বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল

বসিরহাট : প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে হাড়োয়ায় মিছিল করলো বিজেপি। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। এর প্রতিবাদ জানাতেই পথে নামেন বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা বিজেপির হাড়োয়া মণ্ডল ৩ এর উদ্যোগে এবং হাড়োয়া বিধানসভার বিজেপি নেতা ভাস্কর মণ্ডলের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়। হাড়োয়া বিধানসভার দাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলাবাড়ি এলাকায় রাজ‍্য সড়ক ২ (টাকি রোড) এ আয়োজিত এই মিছিলে কয়েকশো মানুষ অংশ নেন। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান তোলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা।
মিছিলের নেতৃত্বে থাকা বিজেপি নেতা ভাস্কর মণ্ডল বলেন, "দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অশালীন মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচিত সাংবিধানিক নেতৃত্বকে নিয়ে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই আমরা পথে নেমেছি।"
তিনি আরও জানান, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বুথস্তরের কর্মী-সমর্থকরা এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আগামী দিনেও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখার দাবিতে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যের জমি দখল করে অবৈধভাবে আবাস যোজনার বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে

*সৌমাভ মণ্ডল,বসিরহাট :* তৃণমূল আমলে অন্যের জমি দখল করে বেআইনি ভাবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি। এবার কাঠগড়ায় উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থানার সিভিক ভলান্টিয়ার অনুপ মন্ডল। বসিরহাট পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে বেআইনি ভাবে জমি দখল করে ওই বাড়ি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। অনুপ মন্ডল নামে ওই অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার বসিরহাট আদালতে সিভিল কোর্ট জুনিয়র ডিভিশনে কর্মরত। অভিযোগ, তৃণমূল আমলে প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় পরিবার এজমান মোল্লার জমি দখল করে সেখানেই প্রধান মন্ত্রী আবাস যোজনার প্রকল্পের বাড়ি বানিয়ে সেখানে বসবাস করছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, শর্ত অনুযায়ী একজন ব্যক্তির প্রধান মন্ত্রীর আবাস যোজনার বাড়ি পেতে হলে নিজের জমি থাকতে হয়। এছাড়াও থাকে আরও শর্ত। সেখানে কীভাবে এই বাড়ি হল তা নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতি রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে মহকুমা শাসক থেকে বিএলএলআরও সব জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছে এজমান মোল্লার পরিবার। তার মেয়ে বলেন, "আমাদের আপত্তি সত্ত্বেও সিভিক ভলেন্টিয়ার প্রভাব খাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি করেছে। বসিরহাট পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কৌশিক দত্তের আমলে ওই বাড়ি হয়েছে। এই নির্মাণের অনুমতি কে দিল কীভাবে বাড়ি হল, সবটা নিয়ে আমরা ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছি।" এনিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর কৌশিক দত্তর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যেই আবাস যোজনার দুর্নীতির অভিযোগে ওই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। এলাকা ছেড়ে পলাতক ওই কাউন্সিলর।

ছবি:সৌমাভ মণ্ডল।
টাকার লোভে পাঁচ বছরের শিশুকে অপহরণের ছক সৎ বাবার! পুলিশের তৎপরতায় বানচাল পরিকল্পনা, গ্রেফতার ২
‌
বসিরহাট : টাকার জন্য পাঁচ বছরের শিশুকে অপহরণের ছক! গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে বানচাল হলো পরিকল্পনা। গ্রেফতার শিশুটির সৎ বাবা-সহ দুই অভিযুক্ত। শুক্রবার রাতে বসিরহাটের শিবহাটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে বসিরহাট পুলিশ জেলার বিশেষ দল। ধৃতদের নাম শুভঙ্কর মণ্ডল ওরফে তারক এবং রাকেশ মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ বছরের একটি শিশুকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে খবর পায় বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ আধিকারিকরা। খবরের গুরুত্ব বুঝে শুক্রবার রাতেই অভিযানে নামে পুলিশ। বসিরহাট, মাটিয়া ও বাদুড়িয়া থানার পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি বসিরহাট পুলিশ জেলার এসওজি দলের সদস্যরাও অভিযানে যোগ দেন। যৌথ অভিযানে শিবহাটি এলাকা থেকে প্রথমে শুভঙ্কর মণ্ডল ওরফে তারককে গ্রেফতার করা হয়। তাকে অপহরণের পরিকল্পনায় সাহায্য করার অভিযোগে রাকেশ মণ্ডলকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।
শনিবার বসিরহাট থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ঘটনার কথা জানান বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভাওয়াল। তিনি জানান, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পারিবারিক বিবাদের জেরে ৪ বছরের শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আরও জানা গিয়েছে, ধৃত শুভঙ্কর মণ্ডল ওরফে তারক ওই শিশুটির সৎ বাবা। টাকার জন্য শিশুটিকে অপহরণ করার ছক কষেছিল বলে পুলিশের জেরায় উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, আগাম খবর পাওয়ায় অপহরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ধৃতদের বসিরহাট আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, অপহরণের পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা কী ছিল এবং আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সময়মতো পুলিশের তৎপরতায় পাঁচ বছরের শিশুকে অপহরণের চেষ্টা বানচাল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়।
কল্যাণনগরে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু, স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ বাপের বাড়ির

*৯ মাসের সন্তানের খাবার আনতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েই অসুস্থ, অভিযোগে চাঞ্চল্য*

*উৎপল দাস, ব্যারাকপুর* :২০২৪ সালে ঘটা করে বিয়ে হয়েছিল রহড়ার কল্যাণনগরের শম্পা দাসের সঙ্গে মৃত্যুঞ্জয় দে'র। মেয়ের শ্বশুরবাড়ি বাপের বাড়ির খুব কাছেই হওয়ায় বিয়ের পর প্রায় প্রতিদিনই বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন শম্পা।

পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে শম্পার উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাতেন স্বামী মৃত্যুঞ্জয়। এই অত্যাচারে শামিল ছিলেন শাশুড়ি সাধনা দে-ও।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই শুক্রবারও ৯ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে বাপের বাড়িতে এসেছিলেন শম্পা। অভিযোগ, সেই সময় মৃত্যুঞ্জয় তাঁকে হুঁশিয়ারি দেন, তিনি যেন আর শ্বশুরবাড়িতে না ফেরেন।

সেই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিয়ে সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই থেকে যান শম্পা। কিন্তু তাড়াহুড়োয় ছোট্ট সন্তানের খাবার আনতে পারেননি। সেই খাবার আনতেই ফের শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি।

অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ি পৌঁছে শম্পা দেখেন সদর দরজায় তালা দেওয়া। এরপর জোর করে ঘরে ঢুকে সন্তানের খাবার নেন।

এর কিছুক্ষণ পরেই শম্পাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যায়। পরিবারের আরও অভিযোগ, একই পাড়ায় বাপের বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়নি শ্বশুরবাড়ির তরফে।

প্রথমে তাঁকে পাতুলিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আজ সকালে ওই বেসরকারি হাসপাতালেই মৃত্যু হয় শম্পার।

ঘটনার পর শম্পার বাবার বাড়ির পক্ষ থেকে স্বামী মৃত্যুঞ্জয় দে এবং শাশুড়ি সাধনা দে'র বিরুদ্ধে রহড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মৃত্যুর কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে রহড়া থানা। ছ বি: উৎপল দাস।