বড়মা মন্দিরে কালীপুজোর ভিড় সামলাতে তৎপর প্রশাসন, একমুখী চলাচল ও NDRF মোতায়েনের পরিকল্পনা

*নিজস্ব সংবাদদাতা,নৈহাটি:* কালীপুজোয় নৈহাটির বড়মার মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের ভিড় সামলাতে আগাম প্রস্তুতি খতিয়ে দেখল প্রশাসন। সোমবার মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। এদিন বড়মা মন্দিরে এসে ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জেলা শাসক শিল্পা গৌরী সারিয়া।তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারাকপুরের এসডিও, পুজো কমিটির সদস্য, পুলিশ আধিকারিক এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।

পরিদর্শনের পর জেলা শাসক শিল্পা গৌরী সারিয়া সাংবাদিকদের জানান, বড়মা মন্দিরে প্রতি বছর যে বিপুল ভিড় হয়, তা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং রুট ম্যাপিং কিভাবে হবে, তা খতিয়ে দেখতেই এই পরিদর্শন।তিনি জানান, কলকাতায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বড় ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমস্ত রকম সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

*কি কি ব্যবস্থা থাকছে?*

১.  *একমুখী চলাচল:* ভিড় এড়াতে এবার এক দিক দিয়েই দর্শনার্থীদের প্রবেশ করানো হবে এবং অন্য দিক দিয়ে বের করে দেওয়া হবে। টু-ওয়ে চলাচল বন্ধ থাকবে, কারণ রাস্তাগুলো খুব সরু।
২.  *ডুবুরি ও NDRF:* অনেক ভক্ত স্নান করে মন্দিরে আসেন, তাই ঘাটগুলোতে ডুবুরি এবং NDRF মোতায়েন থাকবে।
৩.  *VIP মুভমেন্ট নয়:* এবার কোনও VIP মুভমেন্টকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের সুরক্ষাই প্রথম অগ্রাধিকার।

আধিকারিক আরও জানান, এটি তাঁর প্রথমবার মন্দির পরিদর্শন। প্রতিমার কাজ খুব সুন্দরভাবে চলছে এবং গত বছরের থেকেও এবার আরও সুন্দরভাবে পুজোর আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
*ছবি:প্রবীর রায়।*
*'গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও' - কলকাতার রাজপথে বিজেপির মেগা মিছিল, নেতৃত্বে নীতীন নবীন*

*কলকাতা:* জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলনের পাল্টা কর্মসূচি নিল বিজেপি। দেশজুড়ে 'গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও' স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশে পথে নেমেছে গেরুয়া শিবির।

সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আজ, সোমবার কলকাতায় মিছিল করছে বিজেপি। কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত এই মিছিল। মিছিলে জাতীয় পতাকা কাঁধে নিয়ে হাঁটলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। তাঁর সঙ্গে প্রথম সারিতেই ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

এছাড়াও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব ও রাজ্য মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের। তাছাড়াও অংশগ্রহণ করেন লাখো সাধারণ মানুষ।

আজ দুপুরেই প্রায় ২ ঘন্টা লেটে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন নীতীন নবীন। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। সেখান থেকে সরাসরি কলেজ স্ট্রিটে গিয়ে মিছিলে যোগ দেন তাঁরা।

বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, বিরোধীদের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়তেই এই কর্মসূচি। শুধু কলকাতা নয়, আজ একই কর্মসূচিতে হায়দরাবাদে তেরঙ্গা কাঁধে মিছিলে হাঁটছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।

ছবি: সংগৃহীত।
নদীপথে বাংলাদেশে পাচারের আগেই উদ্ধার ৬ গরু, গ্রেফতার ২
বসিরহাট : বাংলাদেশে গরু পাচারের আগেই পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হলো একটি বাছুর-সহ ছ’টি গরু। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে সন্দেশখালি থানার পুলিশ। পাশাপাশি পাচারের কাজে ব্যবহৃত নৌকাটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাটের সন্দেশখালি থানার কর্ণখালী এলাকায় নদীপথে একটি নৌকায় করে গরুগুলিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সন্দেশখালি থানার পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। তল্লাশি চালিয়ে নৌকা থেকে একটি বাছুর সহ মোট ছ’টি গরু উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আব্বাস মোল্লা ও আব্দুল সাত্তার গাজী নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা।
উদ্ধার হওয়া গরুগুলিকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি পাচারের কাজে ব্যবহৃত নৌকাটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কোথা থেকে গরুগুলি আনা হয়েছিল এবং বাংলাদেশে পাচারের পিছনে আরও কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সোমবার তাদের বসিরহাট আদালতে পেশ করা হয়। নদীপথকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তে গরু পাচারের চেষ্টা রুখতে পুলিশের এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
*ছবি:সৌমাভ মণ্ডল* ।
এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতিহাস, হো চি মিনকে হারাল ইস্টবেঙ্গল
*খেলা*


*কলকাতা, ১ নভেম্বর:* কলকাতার ফুটবলে ফের গর্বের মুহূর্ত। রবিবার কলকাতার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিয়েতনামের শক্তিশালী হো চি মিন সিটি উইমেন্স দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল মহিলা ফুটবল দল।

এশিয়ার সর্বোচ্চ মঞ্চে এই জয় নিঃসন্দেহে লাল-হলুদ ব্রিগেডের জন্য ঐতিহাসিক। ঘরের মাঠে দর্শকদের বিপুল সমর্থনকে সঙ্গে নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইস্টবেঙ্গল।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। নির্ধারিত সময়ে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজের প্রশিক্ষণাধীন ইস্টবেঙ্গল মহিলা দল। এই জয়ের ফলে গ্রুপে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার আশা আরও উজ্জ্বল হল মশাল বাহিনীর।

কিশোর ভারতীতে এদিন সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আমেজ। মহিলা দলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা।


*ছবি:সঞ্জয় হাজরা।*
*"মমতা ব্যানার্জির চ্যাপ্টার ক্লোজ, দল তিন ভাগে ভাগ" - দিল্লি-কাণ্ডে মমতাকে তোপ অর্জুন সিংয়ের, ছাড়লেন না সিপিএমকেও*

প্রবীর রায়,ব্যারাকপুর : বিভূতিভূষণ ক্রীড়াঙ্গনে বিজয়া সম্মিলনীতে এসে রাজ্য রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং। এদিন অনুষ্ঠানে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূর্তি বসানোর ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি ছোটদের জন্য মিনি বার্ড ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস, সঙ্গীত শিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ মিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিল্লিতে আন্দোলন করতে যাওয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে মুখ খোলেন অর্জুন সিং।তিনি বলেন, "এসব করে আর লাভ নেই। মমতা ব্যানার্জির চ্যাপ্টার ইজ ক্লোজ নাউ। মমতা ব্যানার্জিকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না।"

তৃণমূলের বর্তমান অবস্থা নিয়েও তোপ দাগেন তিনি। অর্জুন সিং বলেন, "মমতা ব্যানার্জির দলটা তিন ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একটা এনসিপিআই হয়ে গেছে, একটা জীবিত তৃণমূল আর একটা মৃত তৃণমূল হয়ে গেছে। বাংলার অনেক মানুষ জানতেন না কী হবে, কিন্তু আমরা জানতাম। তাঁর এই হাল হবে, এটা অনেকে বিশ্বাস করত না। সরকারি দল আছে বলেই টিকে আছে। সরকার যেদিন যাবে, পার্টিটা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।

এখন মমতা ব্যানার্জি ককরোচ পার্টির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলায় লড়াইয়ের চেষ্টা করছেন।"

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কবে জেলে যাবেন, এই প্রশ্নের উত্তরে অর্জুন সিং বলেন, "অভিষেক শ্রীঘরে যাবে, এটা ফাইনাল।" মন্ত্রিসভার পাঁচজন মন্ত্রী জেলে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমাদের আসার আগেও অনেক মন্ত্রী জেল খেটেছে। ওদের জন্য জেল খাটা কোনও ব্যাপার নয়।"

এদিন বামেদের বইমেলা নিয়ে মিছিল প্রসঙ্গেও সিপিএমকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। তিনি বলেন, "সিপিএমের ভবিষ্যৎ মমতা ব্যানার্জির থেকেও খারাপ হবে। সিপিএম পৃথিবীর মানচিত্র থেকে উঠে যাবে।"

বই বিক্রির রেকর্ড প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "ওদের বই কে পড়ে? দোকানে দেখায় আমি বইটা বিক্রি করলাম, আর ওই বইটা আবার ওদের কাছেই ফিরে আসে। এটা কাঁসার নাটক। সিপিএম এখন নাটক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। রেকর্ড বই বিক্রির যে দাবি করা হচ্ছে, তার অডিট রিপোর্ট ইনকাম ট্যাক্সে জমা পড়বে, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।"

ছবি: প্রবীর রায়।

পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের গেটে তালা, বাইরে দাঁড়িয়ে বিজয়া সম্মিলনী বিধায়িকার! পরদিনই চাবি নিজের হেফাজতে নিলেন রত্না দেবনাথ

*উৎপল দাস,পানিহাটি, উত্তর ২৪ পরগনা:*

বিজয়া সম্মিলনী করতে এসে ক্লাবের গেটে তালা দেখে হতবাক হয়েছিলেন বিধায়িকা। অবশেষে খুদে খেলোয়াড়দের নিয়েই মিষ্টিমুখ করে সারতে হলো অনুষ্ঠান। আর তার পরের দিনই ক্লাবের চাবি নিজের হাতে তুলে নিলেন পানিহাটির বিধায়িকা রত্না দেবনাথ। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

*কী ঘটেছিল শনিবার?*

জানা গেছে, শনিবার পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করেছিলেন বিধায়িকা রত্না দেবনাথ। কিন্তু ক্লাবে পৌঁছাতেই দেখেন ক্লাব ঘরের মূল গেটে ঝুলছে বড় তালা। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরও গেট না খোলায় কার্যত হতবাক হয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত মাঠে খেলতে আসা খুদে পড়ুয়াদের মিষ্টিমুখ করিয়েই বিজয়া সম্মিলনীর আনুষ্ঠানিকতা সারেন বিধায়িকা।

*পরদিনই চাবি দখল:*

ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আজ রবিবার ফের পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে পৌঁছান বিধায়িকা। এবার সরাসরি ক্লাবের তালার চাবি নিজের হেফাজতে নিয়ে নেন তিনি।

পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে রত্না দেবনাথ বলেন, "বর্তমানে ক্লাবের কোনো কমিটি নেই। একজন সম্পাদক ছিলেন, তিনিও পদত্যাগ করেছেন। ফলে বর্তমানে ক্লাবের সমস্ত দায়িত্ব আমার। যতদিন পর্যন্ত নতুন ক্লাব কমিটি গঠন না হচ্ছে, ততদিন ক্লাবের দায়িত্ব আমার হাতেই থাকবে। কমিটি গঠন হলেই আমি তাদের হাতে চাবি তুলে দেব।"

*পাল্টা দাবি ক্লাব সদস্যের:*

যদিও বিধায়িকার এই দাবি মানতে নারাজ ক্লাবের প্রবীণ সদস্যরা। ক্লাবের এক প্রবীণ সদস্য জানান, "বিধায়িকা ক্লাবের কাছে লিখিতভাবে কিছুই জানাননি। সে কারণেই উনি এসে তালা বন্ধ দেখেছেন। ক্লাব পরিচালন কমিটি কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করে না। বর্তমানে ক্লাবের দখল নিতে চাইছেন বিধায়িকা।"

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পানিহাটি জুড়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। একটি ঐতিহ্যবাহী স্পোর্টিং ক্লাবের দখল নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হলো কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
*ছবি: উৎপল দাস।*
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সবাই পাবেন CAA সার্টিফিকেট, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

*CAA নিয়ে মমতা ভুল বুঝিয়েছেন, মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর | ভোটার তালিকায় নাম তোলা হবে জানুয়ারিতেই*

*ঠাকুরনগর, উত্তর ২৪ পরগনা:* নাগরিকত্বের জন্য যাঁদের নাম এখনও ঝুলে রয়েছে, তাঁদের জন্য বড় সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই শুনানি শেষ করে সকলকে CAA সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।

রবিবার ঠাকুরনগরে এক সভা থেকে CAA ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, "CAA-র আওতায় যাঁরা ধর্ম বাঁচানোর জন্য ভারতবর্ষের চরণে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা সবাই নাগরিকত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন। একজন বিরোধিতা করেছিলেন। আজ আপনাদের সঙ্গে অন্যায় করেছিল বলে ঠাকুর তাকে গণতান্ত্রিকভাবে সরিয়ে দিয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "এই সরকার আপনাদের সরকার। ৭০টা বিধানসভা আছে, যেখানে মতুয়ারা আমাদের নির্বাচিত করেছে। শিলিগুড়িতে অমিত শাহজী তিন দিন বৈঠক করেছেন। গুজরাত, রাজস্থান সব রাজ্যকে CAA-র পাওয়ার দিয়ে দিয়েছি। এই রাজ্যে তৃণমূল বিরোধিতা করেছে।"

*কী কী আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?*

১. ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শুনানি শেষ করে সকলকে CAA সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
২. সকলেই এসটি সার্টিফিকেট পাবেন।
৩. জানুয়ারি মাসে CAA সার্টিফিকেট প্রাপকদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য কমিশনকে বলা হবে।

মতুয়া সমাজের জন্য অন্যান্য সুবিধার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, "মতুয়া সমাজ এখন থেকেই CAA সার্টিফিকেট পাওয়ার পর ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা যাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পান, প্রত্যেকে যাতে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পান, সেটাও দেখার দায়িত্ব আপনাদের।"

তিনি আরও জানান, সবটা দেখার জন্য সিএম অফিসে একজন আধিকারিককে রাখা হবে, যাতে কেউ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।

ঠাকুরনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এদিনের খাওয়া-দাওয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আজ বাঙালি খাবারই খাবেন। ইলিশ মাছ থেকে শুরু করে চিংড়ি মাছের পিঠে — যা স্থানীয় স্পেশাল, সবই থাকবে মেনুতে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় এক বিধায়িকা নিজে রান্না করে মুখ্যমন্ত্রীকে খাওয়াচ্ছেন, এটাই তাঁর পরম পাওয়া। ছবি: অঙ্কিত মুখার্জি।
মিনাখাঁয় তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে ১৫ জনপ্রতিনিধি, জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

বসিরহাট : দলবদলকে কেন্দ্র করে মিনাখাঁয় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। বসিরহাটের মিনাখাঁ বিধানসভার কুলটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য সহ একাধিক নেতা-কর্মী ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি অফ ইন্ডিয়াতে যোগদান করেছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। দলীয় পতাকা হাতে তাদের এই যোগদানকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। কুলটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জন সদস্য এবং দু’জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এনসিপিআইতে যোগদান করেন। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা হাতে তুলে দিয়ে তারা নতুন দলে যোগ দেন।

এনসিপিআইর জাতীয় সম্পাদক রাজীব সিনহা জানান, "মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গী হতেই তারা নিজেদের পুরনো দল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগদান করেছেন"। তার দাবি, আগামী দিনে আরও অনেকে এই দলে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এই যোগদানকে ঘিরে মিনাখাঁর কুলটি এলাকায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই দলবদলের ফলে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব পড়ে, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।

ছবি:সৌমাভ মণ্ডল।
পানিহাটিতে বিজয়া সম্মেলনে এসে বাধার মুখে বিধায়িকা, স্পোর্টিং ক্লাবে তালা ঘিরে চাঞ্চল্য

*নিজস্ব সংবাদদাতা, পানিহাটি, ৩১ অক্টোবর:*

রাজ্য জুড়ে প্রত্যেক থানা এলাকা এবং প্রত্যেক বিধায়কের নিজস্ব বিধানসভা অঞ্চলে বিজয়া সম্মেলন পালনের নির্দেশ রয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি বিধানসভার বিধায়িকা রত্না দেবনাথ শনিবার বিজয়া সম্মেলনের জন্য পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবকে নির্ধারিত করেছিলেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষকেও আগাম জানানো হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ক্লাবে পৌঁছে হতবাক হয়ে যান বিধায়িকা। তিনি দেখেন, ক্লাবের সদর দরজায় তালা ঝুলছে। ১২৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের দুটি গেটেই তালা মারা। ভিতরে আলো জ্বলছে। বিধায়িকার অভিযোগ, গ্রিলের ফাঁক দিয়ে লাঠি ঢুকিয়ে আলো জ্বালানো হয়েছে।

এরপর ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মাঠেই খুদে খেলোয়াড়দের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে বিজয়া সম্মেলন সারেন রত্না দেবনাথ।

*বিধায়িকার বিস্ফোরক অভিযোগ:*

পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, "ঢুকতেই পারলাম না। দুটো গেটেই তালা দিয়ে আটকানো। তালা দিয়ে উন্নয়ন বন্ধ রাখা যাবে না।"

তিনি জানান, পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তারা গতকালই পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আজ তাঁর অনুষ্ঠান রয়েছে, সেটা সকলেরই জানা ছিল। তারপরেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ বা কারা তালা মেরে দিয়েছে।

কে এই ঘটনার পিছনে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিধায়িকার বিস্ফোরক দাবি, "আজকে তালা মারার পিছনে তৃণমূলও রয়েছে, সঙ্গে আমাদের বিজেপির একাংশের সমর্থকরাও রয়েছে।"

বিধায়িকার আরও অভিযোগ, গতকাল ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ পেয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ খতিয়ে দেখে আসার পর তৃণমূলের লোকজন এসে এলাকার বাসিন্দাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আজ ক্লাবে ডেকে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু উল্টে ক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হল।

"এই ক্লাবের বয়স ১২৭ বছর। মাঠের অবস্থাও ভালো নয়। এটা অত্যন্ত লজ্জার দিন। প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে, তালা খুলে দেবে। আমি এখানে ঢুকব এবং উন্নয়ন হবে," বলেন বিধায়িকা।

বিষয়টি নিয়ে তিনি খড়দহ থানা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।

এদিনের ঘটনায় পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাব চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। *ছবি: উৎপল দাস।*
শিলং লাজংয়ের জয়ে শুরু, কল্যাণীতে হার মহামেডানের
*খেলা*

*ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ (IFL)*
*নিজস্ব প্রতিনিধি,কল্যাণী:* ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগ (IFL) ২০২৬-২৭ মরসুমের অভিযান জয় দিয়ে শুরু করল শিলং লাজং এফসি। শনিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মহামেডান এসসি-কে ১-০ গোলে হারাল পাহাড়ের দল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ৯০ মিনিটে, বদলি খেলোয়াড় নেলসন রিম্বাইয়ের পা থেকে।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাপট দেখালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না শিলং। অবশেষে অচলাবস্থা ভাঙেন বদলি ফুটবলাররাই। মহামেডানের পেনাল্টি বক্সের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন আরেক বদলি খেলোয়াড় আবেলসন জাচি। তাঁর বাড়ানো বল ধরে ডান পায়ের নিখুঁত ফিনিশে জয়সূচক গোলটি করেন রিম্বাই।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল রেখে ছন্দে খেলছিল শিলং লাজং। দুই প্রান্ত ব্যবহার করে মহামেডানের রক্ষণে চাপ তৈরি করেন তাঁরা। আক্রমণভাগে দামাইতফাং লিংডো এবং ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার জোয়াও ভিটর ডি পাওলা মোরাইস (জোটা) ছিলেন সবচেয়ে সক্রিয়। অধিনায়ক কেনস্টার খারসাং এবং ওভারকাইন্ডনেস এল মাওনাই মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ পরিচালনা করেন। অন্যদিকে মহামেডান শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নেয় এবং কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর ভরসা রাখে।

২০ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় শিলং। ডিফেন্ডার জোয়েডসন ডস স্যান্টোসের জোরালো শট মহামেডান গোলরক্ষক নিখিল ডেকা প্রথমে ফসকালেও পরে সামলে নেন। পালটা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল মহামেডান, কিন্তু জোয়েডসন দ্রুত ফিরে এসে বিপদমুক্ত করেন।

২২ মিনিটে ফের সুযোগ তৈরি করে শিলং। জোটা, লিংডো এবং এভারব্রাইটসন সানার মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়ায় গোলের পরিস্থিতি তৈরি হলেও মহামেডান ডিফেন্ডার জুয়েল আহমেদ মজুমদারের দুর্দান্ত ট্যাকেলে রক্ষা পায় কলকাতার দল।

মাঝমাঠে এফ লালরেমসাংগা কিছুটা ছন্দ আনার চেষ্টা করলেও বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল শিলংয়ের হাতেই। ডান দিক থেকে থোকচম আদিসন সিং কয়েকবার বিপজ্জনক রান নিলেও শিলংয়ের রক্ষণকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি।

এর মধ্যেই বড় ধাক্কা খায় মহামেডান। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লালরেমসাংগা, তাঁর পরিবর্তে নামেন ফরোয়ার্ড লালথানকিমা। এই পরিবর্তন করতে বাধ্য হন মহামেডান কোচ সুধীর মিশ্র।

৪১ মিনিটে গোলের সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করে শিলং। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে সানাকে বাড়ান জোটা। একা গোলরক্ষককে সামনে পেয়েও নিখিল ডেকাকে পরাস্ত করতে পারেননি সানা। পা দিয়ে অসাধারণ সেভ করে দলকে বাঁচান মহামেডান গোলরক্ষক।

ছবি: উৎপল দাস।